রমজান মাস ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখে। তবে রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই “রোজার নিয়ত”, “রোজার নিয়ত বাংলা” এবং “রোজার নিয়ত আরবি” সম্পর্কে জানতে চান। এই ব্লগে আমরা রোজার নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
রোজার নিয়তের গুরুত্ব
ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের জন্য নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন:
“সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)
রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করা মানে মনে মনে স্থির করা যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখছি। এটি মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়, তবে অনেকেই নিয়ত মুখে পড়তে পছন্দ করেন।
রোজার নিয়ত বাংলা ও আরবি
১. রোজার নিয়ত (সাহরির সময়)
আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু সাওমা গাদিন মিন শাহরি রমাদান
অর্থ:
আমি আগামীকাল রমজান মাসের রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
২. নফল রোজার নিয়ত:
আরবি:
نَوَيْتُ صَوْمَ يَوْمِ غَدٍ لِلّٰهِ تَعَالٰى
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু সাওমা ইয়াওমি গাদিল্লিল্লাহি তা’আলা
অর্থ:
আমি আগামীকাল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
রোজার নিয়ত করার সময়
রোজার নিয়ত করার সর্বোত্তম সময় হলো ফজরের আগ মুহূর্ত, সাহরির সময়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি সাহরি না খেয়ে ফজরের পরেও মনে মনে নিয়ত করে নেয়, তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে।
তবে নফল রোজার ক্ষেত্রে, সূর্যের উচ্চতার আগ পর্যন্ত (যদি কিছু না খাওয়া হয়) নিয়ত করা যায়।
রোজার সময়সূচি ও নিয়ম
রমজান মাসে রোজার সময়সূচি নির্ভর করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের উপর। সাধারণত রোজার সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা স্থানীয় মসজিদের দেয়া সময় অনুযায়ী অনুসরণ করা উচিত।
রোজার নিয়ম ও শর্তাবলি
- সাহরি খাওয়া: সাহরি খাওয়া সুন্নত এবং বরকতময়।
- নিয়ত করা: নিয়ত করা আবশ্যক, যদিও মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়।
- হারাম থেকে বেঁচে থাকা: মিথ্যা বলা, গিবত করা, ঝগড়া-বিবাদ করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা।
- ইফতার করা: সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত।
ইফতারের দোয়া
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর ভরসা করেছি এবং তোমার দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করেছি।
রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ
কিছু নির্দিষ্ট কারণ রোজা ভঙ্গ করে, যেমন:
- ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা।
- স্ত্রী সহবাস করা।
- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা।
- মাসেহ বা ঋতুস্রাব শুরু হলে।
রমজানের রোজা আমাদের আত্মশুদ্ধির একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই সঠিক নিয়তে রোজা পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই ব্লগ থেকে “রোজার নিয়ত”, “রোজার নিয়ত বাংলা” এবং “রোজার নিয়ত আরবি” সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন!